ইরানী নারী ফুটবলারদের আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ক্যাম্প থেকে পালিয়েছেন ইরানী ৫ ফুটবলার; অস্ট্রেলিয়ায় চাইলেন রাজনৈতিক আশ্রয়ের
ক্যাম্প ছেড়ে পালানো ৫ ইরানী নারী ফুটবলারকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করাসহ ফুটবল দলকে ইরানে ফেরত না পাঠাতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কেননা তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দলের খেলোয়াড়দের ইরানে ফেরত পাঠানো হলে তাদের জীবন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। চলমান এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ ২০২৬ টুর্নামেন্টে, হ্যাটট্রিক পরাজয়ের পর ইরান টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে ইরানি মহিলা দল, ৫ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ গোলে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে ইরানি মহিলা দল, ৮ মার্চ ফিলিপাইনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে তারা।
সম্প্রতি নিজের দেশের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আলোচনায় আসেন ইরানের এই নারী খেলোয়াড়রা।
কেননা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সংগীত না গেয়ে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা।
এরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়।
তারা দেশে ফিরলে তাদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, "ইরানের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে জোর করে ইরানে ফেরত পাঠালে অস্ট্রেলিয়া একটি ভয়াবহ মানবিক ভুল করবে, কেননা ফুটবলাররা ইরানে ফিরলে তাদের সম্ভবত হত্যা করা হবে। এটা করবেন না, মিঃ প্রধানমন্ত্রী, আশ্রয় দিন। আপনি যদি না চান তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ে যাবে। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।"
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকা ইরানের যুবরাজ রেজা পাহলভির কার্যালয় থেকেও প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান মহিলা দলের পাঁচজন খেলোয়াড় দলের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
"প্রিন্স রেজা পাহলভির কার্যালয় থেকে আরো জানানো হয়েছে যে, ইরানের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের পাঁচজন খেলোয়াড় হলেন: ফাতেমেহ পাসানদিহ, জাহরা ঘাঁবারি, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ এবং মোনা হামুদি। তারা দলের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে,"
এক পোষ্টে আরো জানানো হয়েছে যে"এই পাঁচ সাহসী ক্রীড়াবিদ, যারা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন, তারা ঘোষণা করেছেন যে তারা ইরানের জাতীয় সিংহ ও সূর্য বিপ্লবে যোগ দিয়েছেন,"
ইরানি নারীদের সুরক্ষায় ‘Change.org’-এ একটি পিটিশনে ইতিমধ্যে ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং খেলোয়াড়দের প্রতি সংহতি জানালেও দেশটির সরকার এখনো আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এরই মধ্যে ফিফা, এএফসি এবং অস্ট্রেলীয় সরকারের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে ওঠে। এই হামলায় ইরান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও নিহত হন। প্রতিশোধ হিসেবে, তেহরান একাধিক আরব দেশে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি এবং অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি সম্পদ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। আমেরিকার সাথে ইসরায়েলও তেহরানের উপর হামলা অব্যাহত রাখে, তেল আবিবে হিজবুল্লাহ এবং ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে লক্ষ্য করে সংঘাতকে লেবাননে বিস্তৃত করে।
এর আগে রবিবার, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় সংস্থা, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে তাঁর পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদে নিয়োগে দেয়।
এই নেতৃত্বের পরিবর্তন ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত, কারণ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর মোজতবা খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: